শিক্ষকের শিক্ষার অভাব ছাত্রকে ভুল পথে নিয়ে যায়।

 একজন শিক্ষক যিনি একটি জাতি গড়ার গুরুদায়িত্ব পালন করেন, এমন মানুষের মানসিকতা, চিন্তাচেতনা হওয়া উচিত উন্নত এবং সমৃদ্ধ। একজন শিক্ষকও ছাত্রত্ব শেষ করে তবেই শিক্ষকতা করেন। শিক্ষকের ছাত্র জীবনে উনাদের শিক্ষকের মন-মানসিকতার প্রভাব পড়ে সে ছাত্রের উপর। শিক্ষকের নেতিবাচকতা থাকলে তা তাঁর ছাত্রের উপরও পড়বে তা নিশ্চিত। 

এ কথা বলার কারণ হচ্ছে আমার কলেজ জীবনের এক শিক্ষকের আচরণ ভেবে। ইন্টার দিবো তখন, রেজিষ্ট্রেশন করতে কলেজে গিয়েছিলাম। আমি ছোট থেকেই চুল বড় রাখি এছাড়াও পোশাক পরিধান নিজের বাছাইকৃত হয়। আমার এক শিক্ষক আমার এমন বড় চুল দেখে আমায় ডেকে হাত থেকে কাগজগুলো নিয়ে বললেন এখন নিজেকে দেখো, তোমাকে টোকাইয়ের মত লাগছে। একজন ছাত্রের বৈশিষ্ট্য কি এমন হয়? চুল এত বড় করে রাখা? হাতে আংটি পরা? মনে হচ্ছে মাস্তানের মত। 

আমার বলতে খুব ইচ্ছে করছিল, স্যার আপনার মানসিকতা এতটা নিম্নমানের  কেন? শেষ পর্যন্ত আপনার কাছে শুনতে হলো একজন ছাত্রের বৈশিষ্ট্য বা গুণাগুণ তার পোশাক ও বাহ্যিকতা দেখে বিবেচনা করা হয়! যেখানে শিক্ষা মানুষের অন্তর কলুষতা মুক্ত করে। মানুষের জ্ঞান বৃদ্ধি করে সেখানে আপনার কাছে এ বাহ্যিকতা বেশি হয়ে গেল! আপনি কীভাবে ছাত্রদের শিক্ষা দেবেন যেখানে আপনার নিজের শিক্ষার কমতি রয়েছে? 

আমাদের দেশে শুধু নারী-রা পোশাকের জন্যে অপদস্ত হয় না, পুরুষদেরও হতে হয়। আমি শুধু গুটিকয়েক শিক্ষক দ্বারা শিক্ষার্থীদের অপমানিত হওয়ার কথা বলছি না এবং এমন কথা গুলো যে ছেলেদের শুনতে হয় তাই নয়, মেয়েরাও রেহাই পায় না। মেয়েদের শুনতে হয় কেন তারা মাথায় কাপড় দেয়নি? কেন লিপস্টিক দিয়েছে? কোন ছেলের সাথে টাংকি মারতে সেজে এসেছে? হাস্যকর শোনালেও কথাগুলো সত্য।


আমরা পড়াশোনা করতে স্কুল কিংবা কলেজে গিয়ে থাকি, নিত্যনতুন বন্ধু হয় আমাদের। সে বয়সে আমাদের উড়ে বেড়ানো দোষের কিছু না যদি না তা বাড়াবাড়ি পর্যায়ে চলে যায়। একটা মেয়ে স্কুলে সেজে আসার মানে এই না যে সে কোনো ছেলের সাথে প্রেম করছে। কোনো ছেলের লম্বা চুল রাখার অর্থ এই নয় যে সে উচ্ছুন্নে গিয়েছে। 

গ্রামের পরিবেশে বড় হওয়া প্রতিটি ছেলে-মেয়ে এমন কিছু পরিস্থিতি সম্মুখীন হয়েছে। এলাকার মুরব্বিদের কানাঘুষো চলেছে অধিকাংশদের নিয়েই। চুল বড় রাখা যাবে না, শর্টস পরা যাবে না, গান শোনা যাবে না, বড়দের ভুল দেখেও কিছু না বলে চুমটি করে সয়ে যেতে হবে এগুলোর মুখোমুখি হয়নি ছেলে-মেয়ে খুঁজে পাওয়া দুস্কর।

আমার বলতে ইচ্ছে করে, আমাদের বিচার করার, আমাদের ভুলক্রুটি ধরিয়ে দেওয়ার মতন শিক্ষক, মুরব্বি বা গুরুতুল্য মানুষজন আছেন তবে তাদের যাচাই করার লোক কই? তাদেরকেও যাচাই করা উচিত যারা আমাদের বিচার করছেন।


লেখায়: মুনতাসির নাহিয়ান

Comments