আপনার সঙ্গীর একাধিক পুরুষ/নারীর প্রতি টান মূলত পূর্বপুরুষের-ই পাপের ফসল

আজ থেকে প্রায় ৩০ হাজার বছর আগে মানুষের মাঝে কোনো ব্যক্তিগত কিছুই ছিল না, ব্যক্তিগত সম্পত্তি ছিল না তাই একগামী সম্পর্কেরও প্রয়োজন হয়নি। নারীর কাছে পুরুষ ছিল পুতুলের মত, নারী-রা পুরুষদের যৌন আনন্দে ব্যবহার করতো। ধারণা করা হতো, একু নারীর একাধিক পুরুষের সাথে সম্পর্কে শিশুর জন্ম হলে তার মাঝে একাধিক গুণের আবির্ভাব ঘটতো। সন্তান যেন একইসাথে শিকারী, দক্ষ যোদ্ধা, প্রেমিক ও ভালো গল্পকার হতে পারে তার জন্যে এক অভিনব ব্যবস্থা। দলের সন্তান জন্মবার পর কেউ-ই জানতো না তাদের সন্তান কোনটি তাই সবাই-কেই নিন সন্তানের মতন পালন করতো, দক্ষ করে গড়ে তুলতো।এক পুরুষের মাঝে একইসাথে প্রেমিক, যোদ্ধা, আইনজীবী, রক্ষক, গল্পকার, কবি'র গুণ থাকবে না, আর যা পাওয়াও দুঃসাধ্য। তাই এক পুরুষের সাথে প্রেম করা মোটেও বুদ্ধিমানের কাজ ছিল না।


গ্রিক দার্শনিক প্লেটোও ঠিক এমনই এক সমাজের স্বপ্ন দেখেছিলেন। যেখানে শিশু জন্ম নেওয়ার পর সম্পূর্ণ ভার বহন করবে রাষ্ট্র, বাবা-মার উপর কোনো দায়িত্ব থাকবে না। সেই শিশু রাষ্ট্রের এখতিয়ারে বড় হবে সমান সুযোগ সুবিধা পেয়ে। সন্তান এবং বাবা-মা'রা জানবেন না তাদের বাবা-মা/সন্তান কোনটি! এক নির্দিষ্ট বয়স পাড় করে সেই শিশুগুলো বড় হয়ে সবাই-কেই বাবা-মা বলে ডাকবে। ব্যাপারটি অবাস্তব মনে হলেও প্লেটো সম্ভবত সমাজে বিদ্যমান পাহাড়সম শ্রেণিবৈষম্য দেখেই এমনটি ভেবেছিলেন। বানর কিংবা শিম্পাঞ্জির মাঝে এমন বৈশিষ্ট্য পাওয়া যায়, এছাড়াও বারি ইন্ডিয়ান নামক এক নৃগোষ্ঠীর মধ্যে এমন কালেক্টিভ ফাডারহুডের চর্চা আছে।

এমন চিন্তা আজগুবি মনে হলেও সম্প্রতি এক গভেষনায় পাওয়া গিয়েছে এক নারীর বহু পুরুষের সাথে সুসম্পর্ক থাকলে সে থেকে জন্ম নেওয়া সন্তানের মাঝে সেসকল পুরুষের কিছু কিছু বৈশিষ্ট্য থাকবেই। ব্যাপারটি মন্দ নয়। 


আমাদের রক্তেই রয়েছে বহুগামিতা। জিনে বয়ে চলছে সেই বহুগামী পূর্বপুরুষদের রক্ত। তাই ভালোবেসে বিয়ে করলেও এত অশান্তি ও ঝগড়া বিবাদ থাকে। ধর্ম আমাদের-কে একগামী হতে উৎসাহ দেয়, যেখানে আমাদের রক্ত বলছে অন্য কিছু। ভালোবেসে সুখে শান্তিতে বসবাস করে সৎ, চরিত্রবান স্বামী/স্ত্রীর খেতাব নিতে বলছে। আমাদের মাঝে যে অশান্তি, একাকিত্ব, নিঃসঙ্গতা তা ল্র কারণ-ই হলো সেই দলবদ্ধ জীবনযাপনকে ছেড়ে জোর করে একগামী হওয়ার চেষ্টা।

তাই আপনার স্বামী/স্ত্রী কিংবা প্রেমিক/প্রেমিকা যদি আপনার সাথে থেকেও অন্য কারো চিন্তা করে অথবা বহু সম্পর্কে জড়িয়ে যায়, তবে মোটেও অভিমান করবেন না। এ আমাদের পূর্বপুরুষদের-ই পাপের ফসল।


লেখায়: মুনতাসির নাহিয়ান 

সমাজতন্ত্রী, সাম্যবাদী, মুক্তচিন্তক।

Comments