কুসংস্কার দেশীয় ও বিশ্বাস ভুতে

 


ঐতিহাসিক যুগ থেকেই বিশ্বে ভুত নামক প্রাণের অস্তিত্ব। মন ও মস্তিষ্ক দু'টিতেই এর বিচরণ। বিশ্ব আধুনিক যুগে এসেও এ বিষয়ের উপর কমেনি বরং বেড়েছে। আমাদের দেশেও এর প্রভাব অনেক। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে। শহুরে মানুষের মাঝেও এ কুসংস্কার নেই তা নয়। কেননা গ্রাম্য মানুষ-রা এখনো ঠিকমত আধুনিক জীবনযাত্রায় অভ্যস্ত নয়। দিন দিন তাদের মাঝে কুসংস্কারের প্রভাব বাড়ছে। বলা চলে,বিজ্ঞান ও আধুনিক জীবন সম্পর্কে ধারণা না থাকার কারণে গ্রাম্য মানুষ-রা এখনো এ কুসংস্কার-কে আগলে রেখেছে।
ভুত বলতে আদতে আমরা বুঝি মৃতের প্রেতাত্মা বা অলৌকিক শক্তি। ভুতের ভয় প্রায় সকল মানুষেরই কম বেশ আছে। কিছুক্ষেত্রে জোড়ালো কিছু ক্ষেত্রে কম। তবে বলা চলে আমাদের অবচেতন মন এ নিরাকার প্রাণের প্রতি আমাদের ভয়ের জন্ম দেয়। আমরা সাধারণত রাতেই এ ভুত-কে নিয়ে অজস্র চিন্তা করি। বিশেষ করে যখন আমরা একা থাকি বা নির্জনে থাকি। আমরা শুনিনি দিনে কেউ ভুতের জন্যে ভয় পেয়েছে। তাহলে কি বলা যায় যে ভুত দিনে লুকিয়ে থাকে এবং রাতে তান্ডব করে? প্রচলিত বিশ্বাসে এমনই ধারণা পাওয়া যায়,ভুত দিনের আলো সহ্য করতে পারে না তাই ধ্বংসস্তূপ বা পোড়াবাড়ি মতন জায়গায় লুকিয়ে থাকে।
বিজ্ঞান ও বিজ্ঞানীগণ বহু আগে থেকেই এ ভুত নিয়ে গবেষণা কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন কিন্তু আজ পর্যন্ত ভুতের সঠিক সংজ্ঞা তারা পাননি। এছাড়াও বিভিন্ন ধর্ম মতে ভুতের সংজ্ঞা ভিন্ন হলেও ভুতের অস্তিত্বে বিশ্বাসী। শুধুমাত্র যে আমাদের দেশেউ এ ভুত নিয়ে তোলপাড় তা নয়,বিভিন্ন দেশ ভুতের আকৃতি ও স্বভাবের পরিবর্তন লক্ষ করা যায়। তাহলে চলেন আজ জেনে নিই যে ভুত আসলে কী,বিভিন্ন ধর্মে ভুত-কে কিভাবে দেখা হয় এবং দেশ ভিত্তিক ভুতের ধরণও জেনে নিই।
তাহলে চলুন আজ জেনে নিই আসলেই কি ভুত বলে কিছু আছে? থাকলেও কেমন দেখতে? এদের আহার কী? থাকেই-বা কোথায়? ধর্মীয় মতে ভুতের আবির্ভাব? আর ভুত-কে ঘিরে মানুষের মাঝে যে কুসংস্কার প্রভাব বিস্তার করছে এর কারণগুলি।

ভুত কী?

ভুত কী বা কাকে বলে এ প্রশ্নটি এলেই আমাদের মন-মস্তিষ্কে বিকৃতপ্রায় জীবের চিত্র ভেসে উঠে। সাধারণত অতিপ্রাকৃত কিছুকেই ভুত বলে আখ্যায়িত করে মানুষ। আমরা জানি ভুত রাতেই দৃশ্যমান। নির্জন-নিরালায় আমাদের-কে এ ভুত নামক প্রাণী দেখা দেয়। এ ভুতের বিশ্বাস যে আজকালকার কথা তা নয়। ইতিহাস ঘেটেও আমরা বহুবার ভুত নামের এ জীবের অস্তিত্ব পেয়েছি। ভুতের বসবাস এ পৃথিবীতে আমাদেরও আগে এমন ধারণাও করা হয়। এছাড়াও হলিউড,বলিউড সহ আমাদের দেশেও বহু চলচ্চিত্র ভুতের উপর নির্মাণ করা হয়েছে। শুধু কি চলচ্চিত্র? বিভিন্ন লেখকের লেখায়ও আমরা পড়েছি। দেশি-বিদেশি অনেক লেখক ভুত নিয়ে গল্প,উপন্যাস লিখেছেন। যেগুলো পড়ে গা শিরশিরিয়ে উঠে। ভুত যেকোনো প্রাণীর দেহ ধারণ করতে পারে। হয়তো নিজে কোনো প্রাণীর শরীরে স্থান নিবে নাহলে কোনো প্রাণীর রূপ ধারণ করবে। জানা যায় যে তাদের প্রিয় প্রাণী সাপ। অধিক ক্ষেত্রে এ সাপের রূপ তার ধারণ করে।
কিছু বিজ্ঞানীর মতে,ভুত শুধুমাত্রই আমাদের অবচেতন মনের ধারণা। মাঝে মাঝে আমাদের সাথে কিছু অঘটন ঘটে য্য,তা স্বাভাবিক। কিন্তু যখন এর কোনো বৈজ্ঞানিক উত্তর আমরা খুঁজে পায়না তখনি এ ভুতের জন্ম। আমাদের মস্তিষ্ক এ অঘটনটি ধারণ করে নেয় এবং নিজ উদ্যোগেই একটি ছবি বানিয়ে নেয়। পরবর্তীতে আমরা যখন নির্জন বা একা থাকি তখন পূর্বে ঘটিত সে ঘটনাটি মনে পড়ে এবং মস্তিষ্ক তখনি আমাদের রেটিনায় একটি বিকৃত ছবির স্থান করে দেয়। বারবার এমন ছবি আসাতে আমাদের মাঝে একধরণের ভয়ের সৃষ্টি হয়। এরপর আমরা যখন কোনো ভৌতিক মুভি বা গল্প পড়ি তখন এ ভয়ের মাত্রা বৃদ্ধি পেতে থাকে।
শেষে একটি বিষয়ে সকলে সহমত দেয়,তা হলো ভুত আছেই।

ভুতের আহার কী?

ভুত কী খায় এ নিয়ে অনেক তর্ক। কেননা এখনো আমরা কেউ-ই সঠিক করে বলতে পারছি না ভুতেরা আসলে খায় কী? ধর্মীয় গ্রন্থ ও মানুষের লোককথা-কে কেন্দ্র করে নির্দিষ্ট কিছু খাবার উল্লেখ্য। খাবারের প্রশ্ন এলেই আমরা ভাবি,ভুত আর কিই-বা খাবে! আমাদের মতই ভাত-মাছ খায়। লোককথায় এত ধরণের ভুতের উদাহরণ আছে যে একটির খাবারের সাথে অপরটির খাবারের মিল খুব কম পাওয়া যায়। কিছু ক্ষেত্রে মিল আছে যেমন,মিষ্টি,গোবর,কাঁচা মাছ ইত্যাদি।
মিষ্টির ধারণা আসে যখন বিয়ে বাড়িতে বর বা কন্যা পক্ষ অনেক মিষ্টি এনে ভাড়ার ঘরে রাখে কিন্তু পরে এসে রেখে যাওয় মিষ্টি পায় না। প্রথম প্রথম ভাবা হত হয়তো ছোট বাচ্চা-রা খেয়েছে কিন্তু এত মিষ্টি খেয়ে পেট খারাপ হওয়ার সম্ভাবনা অনেক হওয়ার পরও কোনো বাচ্চার পেট খারাপ হয়না। অন্যদিকে দেখা গিয়েছে শহরের মিষ্টির দোকানে মধ্যরাতে মানুষের রূপ ধরে মিষ্টি কিনতে আসে। অনেক গুলো মিষ্টি নিয়েই উধাও হয়ে গিয়েছে এমন নজিরও পাওয়া গিয়েছে।
গোবর বলতে আমরা বিষ্ঠা বুঝি অর্থাৎ জীবের বর্জ্য। এগুলো তাদের আহার,কিন্তু এ বিষয়ে এখনো সঠিক কোনো তথ্য জানা যায়নি। তবে ভুতেরা মাছখেঁকো এমন অনেক ঘটনা ও কাহিনীর প্রচলন আছে। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে। রাতের বেলা বাজার থেকে মাছ কিনে বাড়ির পথে যাওয়া যুবক কিংবা পুরুষের শরীর ভার হয়ে যাওয়া,নাকি কণ্ঠে "মাঁছ দেঁ" শোনা ও বাড়িতে রাতে মাছ রাঁধতে গিয়ে হিসেব করে রাখা মাছ না পাওয়া এগুলোর প্রচলন এখন অব্দি আছে। রাতের বেলা নদী বা খালে মাছ ধরতে যাওয়া এখন পর্যন্ত মানুষের কাছে ভীতির কারণ,তাদের ধারণা মাছ ধরতে গেলেই পিছন থেকে ভুত তাদের ধাপটে ধরবে। এছাড়াও নদী বা বিলে বড় বিশালাকার মাছগুলো আসলে ভুত,তারা মাছের রূপ ধরে জেলেদের ও নদী-খালে থাকা অন্যান্য মাছের শিকার করে।

ভুতের বাস কোথায়? 

ভুতের বাঁশ কোথায় এমন প্রশ্ন করলেই আমাদের চোখে ভেসে উঠে পোড়াবাড়ি,ঝোপঝাড়,বাঁশবাগানের মত কিছু জায়গা।
আমরা শুনেছি নদীতে মাছের রূপ ধরে এ ভুত তাহলে নিশ্চই নদীতেও এদের বাস সম্ভব। এমনও পোড়াবাড়ি আছে যেগুলো দেখা তো দূরে থাক নাম শুনেও অনেকের পিলে চমকে যায়।
শুনা যায় পোড়াবাড়ির ছাদে সাদা শাড়ি পড়ে নারী হাঁটছে এমন ঘটনা কিন্তু আজ পর্যন্ত কেউ বলতে পারেনি আসলে কে বা কী সে নারী? আমাদের মধ্যে ভয়ের প্রভাব বেশি হওয়ার কারণে আমরা আদতে কোনো ঘটনার ভিতরে না ঢুকে,সত্য না জেনেই তা ভৌতিক বলে চালিয়ে দিই। এছাড়াও এসব বাড়ির ভেতর থেকে মাঝরাতে হাসি,কান্না ও চিৎকার শোনা যায় এমন অনেক ঘটনাও আমরা মুভি কিংবা বইয়ের পাতায় পড়েছি। এখানেই শেষ না,গ্রামাঞ্চল সহ শহরের অনেক মানুষ এসব বাড়িতে আওয়াজ শুনেছে বলেও দাবী করে।
একাকী রাস্তায় দিয়ে চলার পথে পথের মাঝে বাঁশ পড়ে থাকতে দেখা,সন্ধ্যায় বাঁশঝাড়ের দিকে না যাওয়া সবই লোককথা-কে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে। এ নিয়ে ব্যাখ্যা পরবর্তীতে আর্টিকেলে দিবো।

ধর্ম ভুত নিয়ে কী বলে?

প্রতিটি ধর্মের মানুষের মাঝেই এই ভুত ভীতি লক্ষ করা গিয়েছে। পরবর্তী প্রাচীন ধর্ম গ্রন্থ ও সভ্যতার স্মারক এবং চিহ্ন গবেষণায় কিছু চিত্র ও ধারণা পাওয়া গিয়েছে এ ভুত নিয়ে।
আজ আমি এখানে মোট তিনটি ধর্মে ভুত নিয়ে কী বলা হয়েছে তা বলবো।
ইসলাম ধর্ম: ইসলাম ধর্মের পবিত্র গ্রন্থ কোরানে বলা আছে,
"আমি মনুষ্য ও জিন-কে শুধুমাত্র আমার খেদমতের জন্যে সৃষ্টি করেছি(সূরা জারিয়াত,আয়াত: ৫৬) একই সাথে কোরানে জিনদের নিয়ে সূরাও নাজিল হয়েছে সূরা জিন নামে,যেখানে সুস্পষ্ট ভাবে জিনের ব্যাখ্যা করা হয়েছে। এছাড়াও কোরানের বহুবার এ জিন নামক অস্তিত্বের কথা বলা হয়েছে। অর্থাৎ পবিত্র গ্রন্থ কোরান ও ইসলাম ধর্ম বলছে জিন নামক অস্তিত্ব আছে। ভুতের অর্থ অদৃশ্য আত্মা বিশেষ। তবে ইসলাম ধর্ম মতে মৃত্যুর পর আত্মা সাত আসমানে অবস্থান করে। সেহেতু পৃথিবীতে মৃত্যুর পর আত্মার স্থান নেই। তাই ইসলাম মতে ভুত বলে কিছু নেই।
সনাতন বা হিন্দু ধর্ম: সনাতন ধর্মাবলম্বীদের পবিত্র গ্রন্থ বেদ এ ভুতের অস্তিত্ব নিয়ে বলা হয়েছে। আমি আগেই বলেছি ভুত অর্থ অতৃপ্ত আত্না,এরা দৃশ্যমান হয় এদের নিজের ইচ্ছেতে।
যেহেতু হিন্দু ধর্ম মতে বিশ্বাস পুণর্জন্ম। অর্থাৎ মৃত্যুর পরও তারা আবার পৃথিবী-তে আসবেন সেহেতু তাদের আত্মা প্রথমবার মৃত্যুর পর পৃথিবীতেই থেকে যায় পরের জন্মের জন্যে।
খ্রিষ্টীয় ধর্ম: আমরা জানি ৩১ শে অক্টোবর পুরো বিশ্বে ভুত দিবস বা হ্যালোউইন উদযাপন হয়। এটি মূলত খ্রিষ্টীয় ধর্ম বিশ্বাসীদের উৎসব যা এখন পুরো বিশ্বে পালিত হয়। মৃত্যুর পর তাদের প্রিয় মানুষদের আত্মারা তাদের আশপাশেই থাকে কিন্তু তারা দেখতে পান না। কিন্তু হ্যালোউইনে কোনো বাঁধা নেই। সেদিনে তাদের প্রিয় মানুষের আত্মারা তাদেরকে বিভিন্নভাবে ইঙ্গিত ইশারা দেয় যে আমি আছি এখানে! পবিত্র গ্রন্থ বাইবেলে বলা আছে,Every spirit will return and your beloved onoes souls will say your name.অর্থাৎ পৃথিবীতে প্রতি মৃত ব্যক্তির আত্মা ফিরে আসবে এবং তোমার প্রিয় ব্যক্তির আত্মা তোমার নাম ধরে ডাকবে। এক কথায় খ্রিষ্টীয় ধর্মেও ভুতে বিশ্বাস আছে।


ভুত নিয়ে কুসংস্কার কিভাবে এলো?

ধর্মীয় গ্রন্থ অনুযায়ী আমরা জেনেছি আত্মা বা ভুত আছে। তবে মৃত্যুর পর পৃথিবীতে থাকবে এ কথা সনাতন ও খ্রিষ্টান ধর্মে বলা হয়েছে। ধর্ম মতে ভুতে বিশ্বাস পর্যন্ত হলে ঠিক ছিল কিন্তু তা ওই পর্যন্ত-ই সীমাবদ্ধ থাকেনি। কিছু ভন্ড পীর,তান্ত্রিক ও উদ্দেশ্য হাসিলের জন্যে অসৎ মানুষরা বিভিন্ন জায়গায় ভুতের উপদ্রব আছে বলে ছড়িয়েছে। এছাড়াও এমন কথাও ছড়ায় যে কারো শরীরে ভুতের প্রবেশ ঘটেছে। এক শতক আগেও মানুষের বিশ্বাস ছিল ভুত তাড়ানোর জন্যে জম্পেশ ভোজের আয়োজন করে নদী কিংবা কোনো বড় তাল গাছের নিচে রেখে আসতে হয়।
তাল গাছ,তেঁতুল গাছ,বট গাছকে এখন পর্যন্ত ভুতের আস্তানা ভাবা হয়। প্রচলিত লোককথা অনুযায়ী বলা হয়,রাতের বেলা এসব গাছের পাশে গেলে দমবন্ধ হয়ে যায়,শ্বাস নিতে অসুবিধে হয়। কিন্তু মূলত এটিও কুসংস্কার ছাড়া কিছুই নয়। আমরা জানি রাতে গাছ কার্ব ডাই-অক্সাইড গ্যাস বর্জন করে এবং রাত গভীর হওয়ার সাথে সাথে এর পরিমাণ বাড়ে। স্বভাবতই এমন সময় কেউ গাছের পাশে অবস্থান করলে তার শ্বাস নিতে অসুবিধে হবেই কেননা গাছের নিচে তখন পর্যাপ্ত পরিমাণে অক্সিজেন থাকে না। গ্রাম্য মানুষের বিজ্ঞান বিষয়ে অজ্ঞতার কারণেই এমন ধারণার উৎপত্তি।
এবার আসা যাক তাল গাছ বিষয়ে। রাস্তার পাশে তাল গাছ থাকা স্বাভাবিক,তবে পথচারীদের মতে রাতে তাল গাছের নিচে গেলে ভুতেরা তাদের গায়ে তাল ছুড়ে মারে। এর কারণ বলছি,
মূলত তাল গাছের মাঝে তিনটি ভাগ আছে। বারোমাসি,
অর্ধবার্ষিকী ও মৌসুমি। এছাড়াও তাল গাছে পাখিরা বাসা বাঁধে এবং এদের খাদ্য তালিকায় তালও আছে। সেক্ষেত্রে বলা যায় পাখি ও গাছের বৈশিষ্ট্যের কারণে তাল যেকোনো সময় নিচে পড়তেই পাড়ে।
নদীর বিষয়ে আসা যাক। প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী নদীতে ভুতের বসবাস। সন্ধ্যায় নদীতে গোসল বা স্নান করলে এ অশুভ শক্তি তাদেরকে পানির গভীরে নিয়ে যায়। এবার এ ধারণা হওয়ার কারণ বলছি। আমরা জানি,চাঁদের গ্রহণ ও তারার প্রভাবে নদী ও সাগরে জোয়ার-ভাটা হয়। বাংলাদেশ আবহাওয়া দপ্তর থেকে জানা যায় জোয়ার-ভাটার সময়। আর এ সময় ভাগে জেনেছি দুপুর তিনটার পর থেকেই জোয়ারের প্রভাব আসে। প্রশ্ন হতে পারে দুপুরে তো চাঁদ ও তারা থাকে না তাহলে কিভাবে সম্ভব? জ্বী এটি সম্ভব,কেননা ভৌগলিক অবস্থান অনুযায়ী দিন ও রাত্রি উত্তর ও দক্ষিণ প্রান্তে ভিন্ন হয় এবং আমরা এও জানি মহাসাগর,সাগর ও নদী সবগুলোই একে-অপরের সাথে যুক্ত। উত্তর প্রান্তে রাতে জোয়ার হলে সে জোয়ারের টান দক্ষিণ প্রান্তে বিকেলের দিকে আসবে এ তো জানা কথা।
দেশের এ তিনটা থেকে জোয়ার সর্বোচ্চ সন্ধ্যা অব্দি থাকে,সন্ধ্যার পর পর এর প্রভাব কমে এবং ভাটার টান আমরা অনুভব করি। এ ভাটার সময় নদীতে স্নান করলে ভাটার প্রকোপে পড়তে হবে,কিন্তু গ্রাম্য মানুষ সন্ধ্যার সময়কার এ পানিতে টেনে নেওয়ার বিষয়টি অর্থাৎ জোয়ার ভাটার বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নয় তাই তথাকথিত ভন্ড তান্ত্রিকের ভাষ্যমতে ভুতের আক্রমণ বলে চালিয়ে দেয় এবং সহজ-সরল গ্রামবাসীও এ ফাঁদে পা দেয়।

মূল কথা

গ্রাম থেকে শহরের উৎপত্তি তাই গ্রামের মানুষের মধ্যে যে কুসংস্কার ছিল তা প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে শহরের মানুষের মাঝেও বিদ্যমান। একই ধারাকে তারা অব্যাহত রয়েছে। শহুরে জীবনযাপন ও বিজ্ঞানের উন্নতির ফলে শহরে এ কুসংস্কার ধীরে ধীরে কমে গেলেও গ্রামে এর বিস্তার এখন অব্দি রয়েছে।
ধর্মীয় গ্রন্থ অনুযায়ী বিশ্বাস মেনে নেওয়া যায় তবে কুসংস্কার নয়। যারা শহরে পড়াশোনা করেছে এবং গ্রামে আসা যাওয়া হয় তারা যদি একটু সতর্কতা অবলম্বন করে ও গ্রামের মানুষদের এ বিষয়ের সঠিক কারণ গুলো জানিয়ে দেয় তবে কুসংস্কার থেকে দেশের মানুষ মুক্তি পাবে।

শুধু যে ভুত-কে নিয়ে কুসংস্কার প্রচলিত তা নয়। আমাদের দেশে শতাধিক কুসংস্কার রয়েছে। বাল্যবিবাহ,জন্মের পর বিয়ে দেওয়া সহ আরো বিভিন্ন কুসংস্কারের মাঝে আমরা বাস করছি। বাংলাদেশের একজন সুনাগরিক হয়ে আমাদের সকলের উচিত আমাদের দেশ এসব কুসংস্কার থেকে মুক্ত করা।

Comments